ত্রিশাল পরিচিতি
ত্রিশাল ময়মনসিংহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী উপজেলা। এটি মূলত তার সাহিত্যিক গুরুত্ব
এবং মৎস্য সম্পদের সমৃদ্ধির জন্য দেশব্যাপী পরিচিত। ত্রিশালকে বলা হয় 'বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের
স্মৃতিধন্য ভূমি'।
১. ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কৈশোরের একটি
গুরুত্বপূর্ণ সময় ত্রিশালের দরিরামপুর হাই স্কুলে কাটিয়েছেন। তাঁর স্মরণে এখানে 'জাতীয় কবি কাজী নজরুল
ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ত্রিশাল বর্তমানে উচ্চশিক্ষার এক বড় কেন্দ্র এবং নিয়মিত
সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূলবিন্দু।
২. অর্থনীতি ও বিশেষ পণ্য (মাছের রাজধানী): ত্রিশালকে বলা হয় বাংলাদেশের 'মাছের
রাজধানী'। এখানে বৈজ্ঞানিক ও উন্নত পদ্ধতিতে মাছের (বিশেষ করে পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া ও কার্প জাতীয়)
চাষাবাদ হয়, যা দেশের মৎস্য চাহিদার একটি বিশাল অংশ পূরণ করে। এছাড়া পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পেও ত্রিশাল
অত্যন্ত অগ্রগামী।
৩. দর্শনীয় স্থান: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরকাড়া ক্যাম্পাস,
কবির স্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুর স্কুল এবং নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র এখানকার প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া এখানকার
প্রাকৃতিক বিল ও জলাশয়গুলোও বেশ সুন্দর।
৪. যোগাযোগ ব্যবস্থা: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঠিক পাশেই ত্রিশালের অবস্থান। ঢাকা বা
ময়মনসিংহ থেকে বাসে খুব সহজেই ত্রিশাল যাতায়াত করা যায়। ফোর-লেন মহাসড়কের কারণে যাতায়াত অত্যন্ত
দ্রুত ও আরামদায়ক।
কৌশলবিদ
ত্রিশালকে 'নজরুল-কেন্দ্রিক কালচারাল ট্যুরিজম
হাব' হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা প্রয়োজন। কবির স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলোকে যুক্ত করে একটি 'নজরুল
ট্রেইল' পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
সমালোচনামূলক চিন্তাবিদ
নিবিড় মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব
প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দেওয়া উচিত। এছাড়া দ্রুত নগরায়নের ফলে যাতে আবাদী কৃষিজমি ও জলাশয়গুলো
বিলীন না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখা জরুরি।
উদ্ভাবনী এক্সিকিউটর
ত্রিশালের মৎস্য খাতকে ভিত্তি করে এখানে একটি
'অ্যাগ্রো-টেকনোলজি পার্ক' গড়ে তোলা যেতে পারে। যা মৎস্য চাষিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং মাছ
প্রক্রিয়াজাতকরণে সহায়তা করবে।