সোনারগাঁও পরিচিতি
সোনারগাঁও উপজেলা নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি অত্যন্ত গৌরবময় ও ঐতিহাসিক জনপদ। এটি মূলত মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন
সুলতানি আমলের রাজধানী হিসেবে বিশ্বখ্যাত।
১. ভৌগোলিক অবস্থান: সোনারগাঁও উপজেলার উত্তরে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার, দক্ষিণে গজারিয়া ও
মেঘনা নদী, পূর্বে বাঞ্ছারামপুর ও হোমনা এবং পশ্চিমে বন্দর ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা অবস্থিত।
২. ইতিহাস ও ঐতিহ্য: সোনারগাঁওয়ের রয়েছে সুদীর্ঘ ও স্বর্ণালী ইতিহাস। ইশা খাঁ থেকে শুরু
করে বারো ভূঁইয়াদের স্মৃতিবিজড়িত পানাম নগর ও বিভিন্ন সুপ্রাচীন মসজিদ এবং স্থাপত্য এ অঞ্চলের ইতিহাসের
সাক্ষী দিচ্ছে। এখানকার মসলিন শিল্প সারা বিশ্বে প্রবাদতুল্য ছিল।
৩. অর্থনীতি: সোনারগাঁওয়ের অর্থনীতি বর্তমানে কৃষি, শিল্প ও পর্যটন উভয়ের ওপর নির্ভরশীল।
এখানে বড় বড় শিল্পপার্ক গড়ে উঠেছে যা অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। পর্যটন শিল্প এখানকার অর্থনীতির একটি বিশেষ
ভিত্তি।
৪. দর্শনীয় স্থান: পানাম নগর, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর (জয়নুল আবেদিন জাদুঘর),
গোয়ালদি মসজিদ এবং শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর পাড় এলাকা।
৫. যোগাযোগ ব্যবস্থা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এ উপজেলার ওপর দিয়ে গিয়েছে যা যাতায়াতের
প্রধান পথ। সড়ক ও নদী—এই দুই পথেই সোনারগাঁও চমৎকারভাবে যুক্ত।
কৌশলবিদ
সোনারগাঁওকে একটি 'ইন্টারন্যাশনাল হেরিটেজ সিটি'
হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্বমানের পর্যটন অবকাঠামো ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব।
সমালোচনামূলক চিন্তাবিদ
ঐতিহাসিক পানাম নগরের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণে আধুনিক ও
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অভাব রয়েছে, যা দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন।
উদ্ভাবনী এক্সিকিউটর
সোনারগাঁওয়ে একটি বিশাল 'ক্রাফট ভিলেজ ও ডিজাইন
স্টুডিও' স্থাপন করে লোকজ শিল্পের আধুনিকায়ন ও রফতানি বাড়ানো সম্ভব।