Back
পদ্মা সেতুর প্রবেশদ্বার

শরীয়তপুর জেলা

হাজী শরীয়তউল্লাহর স্মৃতিধন্য পদ্মা-মেঘনার উর্বর জনপদ

মূল পরিচিতি

শরীয়তপুর বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের একটি অপেক্ষাকৃত শান্ত কিন্তু অর্থনৈতিক ও যোগাযোগগত দিক থেকে অত্যন্ত দ্রুত অগ্রসরমান জেলা। পদ্মা ও মেঘনা নদীর বিশাল অববাহিকায় অবস্থিত এই জেলাটি বর্তমানে জাতীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

উপজেলাসমূহ (৬টি)

শরীয়তপুর সদর
জাজিরা
নড়িয়া
ভেদরগঞ্জ
ডামুড্যা
গোসাইরহাট

ইতিহাস ও নামকরণ

১৯৮৪ সালে শরীয়তপুর একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই জেলার নামকরণ করা হয়েছে ফরায়েজী আন্দোলনের মহান নেতা হাজী শরীয়তউল্লাহ-র নামানুসারে। এটি ঐতিহাসিকভাবে একটি চরবেষ্টিত ও নদীমাতৃক জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল।

অর্থনীতি ও কৃষি

শরীয়তপুরের অর্থনীতি কৃষি, রেমিট্যান্স এবং মৎস্য সম্পদের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।

কৃষি ফলন: এখানকার উর্বর মাটিতে প্রচুর পরিমাণে ধান, পাট, সরিষা এবং রবি শস্য উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে সুরেশ্বর কৃষি পণ্যের একটি বড় হাব।

রেমিট্যান্স: এই জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেন।

ভৌগোলিক অবস্থান

অবস্থান: রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

সীমানা:
  • উত্তর: মুন্সিগঞ্জ (পদ্মা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন)
  • দক্ষিণ: মাদারীপুর ও বরিশাল
  • পূর্ব: চাঁদপুর (মেঘনা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন)
  • পশ্চিম: মাদারীপুর জেলা

আয়তন: প্রায় ১,১৭৪ বর্গ কিমি।

যোগাযোগ ব্যবস্থা

পদ্মা সেতু (জাজিরা প্রান্ত): পদ্মা সেতু চালুর ফলে শরীয়তপুরের সাথে ঢাকার দূরত্ব অবিশ্বাস্যভাবে কমে এসেছে। জাজিরা প্রান্তের সংযোগ শরীয়তপুরকে দক্ষিণবঙ্গের একটি প্রধান প্রবেশপথে পরিণত করেছে।

নৌপথ: নদীমাতৃক এলাকা হওয়ায় মেঘনা ও পদ্মা নদী এখনো পণ্য পরিবহনের অন্যতম সাশ্রয়ী ও প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান

আধুনিক ও আধ্যাত্মিক

পদ্মা সেতু ও সংযোগ সড়ক (জাজিরা) আধুনিক প্রকৌশল শিল্পের এক বিস্ময় যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করে।
সুরেশ্বর দরবার শরীফ নড়িয়ায় অবস্থিত এই দরবার শরীফটি আধ্যাত্মিক পর্যটনের জন্য সারা দেশে সুপরিচিত।
রাম সাধুর মাজার একটি প্রচলিত লোকজ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।

স্থাপত্য ও প্রকৃতি

বুড়িরহাট মসজিদ একটি চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর প্রাচীন মসজিদ যা এ অঞ্চলের ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারক।
মেঘনা নদীর চর এলাকা বর্ষাকালে সমুদ্রের ন্যায় উত্তাল মেঘনার দৃশ্য এবং চরাঞ্চলের দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ।
ধনুকা মনসা বাড়ি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন একটি প্রাচীন স্থাপনা।

বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ব্যক্তিত্ব

আধ্যাত্মিক ও সমাজ সংস্কার

হাজী শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের মহান নেতা ও সমাজ সংস্কারক। তাঁর নামানুসারেই এই জেলার নামকরণ করা হয়েছে। তিনি এ অঞ্চলের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় অবিস্মরণীয় কাজ করেছেন।
সুরেশ্বরী শাহ আহমদ একজন মহান আধ্যাত্মিক সাধক ও কবি। তাঁর আধ্যাত্মিক লেখনী ও দর্শন শরীয়তপুরের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে।

আধুনিক সৃষ্টি ও মনন

আবু ইসহাক কালজয়ী ঔপন্যাসিক। তাঁর 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাস বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর শৈশব ও কৈশোরের বড় সময় এই জেলার নদী ও চরাঞ্চলের পরিবেশে অতিবাহিত হয়েছে।
অতুল প্রসাদ সেন (স্মৃতি) বিখ্যাত সংগীতকার ও কবি। যদিও তাঁর কর্মক্ষেত্র অন্যত্র ছিল, কিন্তু পদ্মা তীরের এই জনপদের প্রাণের সাথে তাঁর সুর মিশে আছে।

ভবিষ্যৎ প্যানেল ও কৌশল

কৌশলবিদ

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত শরীয়তপুরকে 'এগ্রো-লজিস্টিক হাব' গড়ার এক দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এখানে বড় আকারের কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

সমালোচক

নড়িয়া ও জাজিরা অঞ্চলে নদীভাঙন বড় সমস্যা। টেকসই ড্রেইজিং এবং পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে স্থায়ী করার প্রধান শর্ত।

উদ্ভাবক

রেমিট্যান্সের আয়কে সরাসরি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করার জন্য স্থানীয় বিনিয়োগ স্কিম এবং চরাঞ্চলে সেচ প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ অর্থনীতি বদলে দিতে পারে।