Back
শিল্প নগরী ও সুন্দরবনের প্রবেশপথ

খুলনা জেলা

সাদা সোনার শহর ও রূপসা-ভৈরব বিধৌত জনপদ

মূল পরিচিতি

খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা। রূপসা ও ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত এই জেলাটি তার ভৌগোলিক গুরুত্বের জন্য দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন 'সুন্দরবন' এই জেলার প্রাকৃতিক গর্ব। এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প শহর এবং মাছ (বিশেষ করে চিংড়ি) উৎপাদনের জন্য একে 'সাদা সোনার শহর' বলা হয়।

উপজেলাসমূহ (৯টি)

বটিয়াঘাটা
দাকোপ
দিঘলিয়া
ডুমুরিয়া
কয়রা
পাইকগাছা
ফুলতলা
রূপসা
তেরখাদা

ইতিহাস ও ঐতিহ্য

খুলনার ইতিহাস বেশ প্রাচীন। প্রাচীন আমলে এটি দক্ষিণবঙ্গের লবণ ও কৃষি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। ১৮৮২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। খুলনার লোকসংস্কৃতি এবং সাহিত্য ঐতিহ্যে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার ছায়া পাওয়া যায়। রূপসা ও ভৈরবকে কেন্দ্র করেই খুলনার অধিকাংশ নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছে।

অর্থনীতি ও শিল্প

মৎস্য শিল্প: হিমায়িত মৎস্য (চিংড়ি) রপ্তানি করে খুলনা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।

ভারী শিল্প: খুলনা শিপইয়ার্ড, পাটকল এবং নিউজপ্রিন্ট মিল এই অঞ্চলের শিল্পায়নের প্রধান নিদর্শন। মোংলা সমুদ্র বন্দর এই জেলার বাণিজ্যের প্রধান প্রাণভোমরা।

ভৌগোলিক অবস্থান

অবস্থান: সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি পলল অববাহিকায় অবস্থিত।

সীমানা:
  • উত্তর: যশোর ও নড়াইল জেলা
  • দক্ষিণ: বঙ্গোপসাগর
  • পূর্ব: বাগেরহাট জেলা
  • পশ্চিম: সাতক্ষীরা জেলা

যোগাযোগ ব্যবস্থা

নৌপথ: নদী বিধৌত হওয়ায় খুলনার নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। রূপসা সেতু এই অঞ্চলের সড়ক ও নৌ চলাচলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

রেলপথ: খুলনা রেলওয়ে স্টেশন দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগের প্রধান হাব। ঢাকা ও সারা দেশের সাথে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করে।

দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান

প্রকৃতি ও নিসর্গ

সুন্দরবন (Karamjal) বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আবাস।
রূপসা সেতু (খান জাহান আলী সেতু) খুলনার সিগনেচার ল্যান্ডমার্ক ও অপূর্ব স্থাপত্যের নিদর্শন।
ভৈরব ও রূপসা নদীর পাড় বিকালে ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় ও মনোরম স্থান।

ঐতিহ্য ও স্মৃতি

দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শ্বশুরবাড়ি।
শিরোমণি স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক রণাঙ্গনের স্মৃতিবাহী স্থম্ভ।
খুলনা জাদুঘর দক্ষিণবঙ্গের ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সংগ্রহশালা।

বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ব্যক্তিত্ব

বিজ্ঞান ও বিশ্ব সাহিত্য

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (পি. সি. রায়) বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও রয়্যাল সোসাইটির সদস্য। বিজ্ঞানের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য ও সমাজ সংস্কারে তাঁর অগাধ পান্ডিত্য ও অবদান রয়েছে। তাঁর জন্ম পাইকগাছায়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (স্মৃতি) খুলনার ফুলতলার দক্ষিণডিহিতে কবিগুরুর শ্বশুরবাড়ি। তাঁর জীবন ও কাব্যের অনেক অনুষঙ্গ এই অঞ্চলের প্রকৃতির সাথে মিশে আছে।

শিল্প ও স্বাধীনতা

সৈয়দা লুৎফুন্নেসা (কবি) খুলনার প্রখ্যাত মুসলিম নারী কবিদের মধ্যে অন্যতম, যিনি সাহিত্যচর্চায় সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।
বিখ্যাত বাউল ও সংগীত রূপসা-ভৈরবের পাড়ে জন্মেছেন অনেক সুরের কারিগর যারা বাংলার লোকসংগীতে প্রাণ যুগিয়েছেন।

বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ব্যক্তিত্ব

কালজয়ী সাহিত্য ও কবিতা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (স্মৃতি) বিশ্বকবির শ্বশুরবাড়ি খুলনার ফুলতলার দক্ষিণডিহিতে অবস্থিত। তাঁর অনেক কালজয়ী সৃষ্টিতে এ অঞ্চলের নিসর্গ ও জীবনবোধের প্রভাব রয়েছে।
প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (পি.সি. রায়) উপমহাদেশের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ। খুলনার পাইকগাছায় তাঁর জন্ম। তাঁর মেধা ও সমাজসেবা এ অঞ্চলের মানুষের অহংকার।

সাংস্কৃতিক ও ইতিহাসবিদ

অমৃত লাল বসু প্রখ্যাত নাট্যকার ও অভিনেতা। খুলনার সাথে তাঁর পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক যোগসূত্র বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বড় অধ্যায়।
আঞ্চলিক লোকশিল্পীগণ রূপসা ও ভৈরব নদীর পাড়ে লোকসংগীতেও এ অঞ্চলের মাটির মানুষের জীবনবোধ ও সংগ্রামের চিত্র ফুটে ওঠে।

ভবিষ্যৎ প্যানেল ও কৌশল

কৌশলবিদ

মোংলা বন্দর ও শিল্প অঞ্চলকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ 'লজিস্টিক এবং ইকোনমিক করিডোর' তৈরি করলে দক্ষিণবঙ্গের আমূল পরিবর্তন সম্ভব।

সমালোচক

লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তন খুলনার কৃষিখাতের বড় হুমকি। টেকসই মিষ্টি পানি ব্যবস্থাপনা ও উপকূলীয় বাঁধ মজবুত করা অত্যন্ত জরুরি।

উদ্ভাবক

ইকো-ট্যুরিজম ও ব্লু-ইকোনমি কনসেপ্ট ব্যবহার করে খুলনার পর্যটন শিল্পকে বিশ্ববাজারে আকর্ষণীয় পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব।