Back
প্রকৃতির রাণী ও প্রধান বাণিজ্যিক শহর

চট্টগ্রাম জেলা

বার আউলিয়ার স্মৃতি ও কর্ণফুলী বিধৌত সাগরকেন্দ্রিক জনপদ

মূল পরিচিতি

চট্টগ্রাম জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জেলা। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। একপাশে বিশাল সমুদ্র সৈকত, অন্যপাশে সবুজে ঘেরা পাহাড়—এই দুইয়ের মিশেল চট্টগ্রামকে করে তুলেছে অনন্য। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

উপজেলাসমূহ (১৫টি)

পটিয়া
আনোয়ারা
বাঁশখালী
বোয়ালখালী
চন্দনাইশ
ফটিকছড়ি
হাটহাজারী
লোহাগাড়া
মীরসরাই
রাউজান
রাঙ্গুনিয়া
সন্দ্বীপ
সাতকানিয়া
সীতাকুণ্ড
কর্ণফুলী

ইতিহাস ও ঐতিহ্য

চট্টগ্রাম এক সময় 'পোর্টো গ্রান্ডে' নামে পর্তুগিজদের কাছে পরিচিত ছিল। এটি আউলিয়াদের পূণ্যভূমি হিসেবে অভিহিত। আরকান ও পাল আমলের রাজাদের আধিপত্য থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসন বিরোধী আন্দোলন (যেমন: মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে যুব বিদ্রোহ) পর্যন্ত চট্টগ্রামের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস রয়েছে।

অর্থনীতি ও শিল্প

বন্দর: চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে।

শিল্প: এখানে অবস্থিত ইস্পাত কারখানা, তেল শোধনাগার এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্প দেশের অর্থনীতির প্রধান যোগানদাতা। এছাড়া সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙ্গা (Ship breaking) শিল্প বিশ্বখ্যাত।

ভৌগোলিক অবস্থান

অবস্থান: বঙ্গোপসাগরের কূলে অবস্থিত পাহাড়ি ও সমতল ভূমির সমন্বয়।

সীমানা:
  • উত্তর: ফেনী জেলা ও খাগড়াছড়ি জেলা
  • দক্ষিণ: কক্সবাজার জেলা
  • পূর্ব: বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলা
  • পশ্চিম: বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা মোহনা

যোগাযোগ ব্যবস্থা

রেলপথ: ঢাকা-চট্টগ্রাম দেশের প্রধান রেলপথ। 'সুবর্ণ এক্সপ্রেস' ও 'সোনার বাংলা' এ পথের জনপ্রিয় ট্রেন।

আকাশপথ: শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এই অঞ্চলের আকাশপথের প্রধান যোগাযোগ কেন্দ্র।

দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান

স্থাপত্য ও ঐতিহ্য

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত শহরের ক্লান্তি দূর করার মনোরম সাগর তট।
ফয়েজ লেক বিনোদনের জন্য পাহাড়ী হ্রদ ও অ্যামিউজমেন্ট পার্ক।
ওয়ার সিমেট্রি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শহিদদের স্মৃতিবাহী শান্ত উদ্যান।

প্রকৃতি ও রোমাঞ্চ

চন্দ্রনাথ পাহাড় (সীতাকুণ্ড) ট্রেকিং প্রেমীদের জন্য আদর্শ ও আধ্যাত্মিক তীর্থভূমি।
গুলিয়াখালি সৈকত সবুজ ঘাস ও বনের মিশেলে এক অদ্ভুত সুন্দর সৈকত।
খৈয়াছড়া ঝর্ণা মীরসরাইতে অবস্থিত নয় ধাপের অবারিত জলধারা।

বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ব্যক্তিত্ব

কালজয়ী সাহিত্য ও সুর

আলাওল মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর 'পদ্মাবতী' কাব্য বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য রত্ন। তিনি আরাকান রাজসভার কবি হিসেবে এ অঞ্চলেই অমর শিল্প সৃষ্টি করেছেন।
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ প্রাচীন পুঁথি সংগ্রাহক ও গবেষক। চট্টগ্রামের পটিয়ায় তাঁর জন্ম। বাংলা সাহিত্যের হারানো সম্পদ ও ঐতিহ্য উদ্ধার করে তিনি এক অবিস্মরণীয় কীর্তি রেখে গেছেন।

শিক্ষা ও আধুনিক সমাজ

ড. মুহম্মদ ইউনূস (নোবেল বিজয়ী) ক্ষুদ্রঋণের প্রবর্তক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে তাঁর জন্ম এবং তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তা বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে বিপ্লব ঘটিয়েছে।
মাস্টারদা সূর্য সেন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের মহানায়ক। চট্টগ্রামের রাউজানে তাঁর জন্ম। তাঁর সাহসিকতা এ অঞ্চলের ইতিহাসের এক অবিনশ্বর গৌরব।

বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ব্যক্তিত্ব

কালজয়ী সাহিত্য ও পুঁথি

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ প্রাচীন পুঁথি সংগ্রাহক ও গবেষক। চট্টগ্রামের পটিয়ায় তাঁর জন্ম। বাংলা সাহিত্যের হারানো সম্পদ ও ঐতিহ্য উদ্ধার করে তিনি এক অবিস্মরণীয় কীর্তি রেখে গেছেন।
আলাওল (স্মৃতি) মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর 'পদ্মাবতী' কাব্য বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য রত্ন। তিনি আরাকান রাজসভার কবি হিসেবে এ অঞ্চলেই অমর শিল্প সৃষ্টি করেছেন।

বিপ্লবী ও মহান ব্যক্তিত্ব

সূর্য সেন (মাস্টারদা) ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনের মহানায়ক। চট্টগ্রামের জালালাবাদ পাহাড়ে তাঁর নেতৃত্বে বিপ্লবীরা ব্রিটিশদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
ড. মুহম্মদ ইউনূস নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ চট্টগ্রামের সন্তান। ক্ষুদ্রঋণের ধারণা প্রবর্তন করে তিনি সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

ভবিষ্যৎ প্যানেল ও কৌশল

কৌশলবিদ

কর্ণফুলী টানেলের পর সমুদ্র তীরবর্তী ড্রাইভওয়ে প্রশস্ত করলে চট্টগ্রামকে একটি বিশ্বমানের পর্যটন ও শিল্প ও নগরীতে রূপান্তর সম্ভব।

সমালোচক

জলবদ্ধতা চট্টগ্রামের প্রধান অভিশাপ। টেকসই বর্জ্য নিষ্কাশন ও নদী শাসন ছাড়া শহরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

উদ্ভাবক

মেরিন ড্রাইভ রোডকে ঘিরে ইকো-ট্যুরিজম ও স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালু করলে এ অঞ্চলের জীবনযাত্রা সহজ ও আধুনিক হবে।