Back
বাংলার ভেনিস ও কীর্তনখোলা বিধৌত শহর

বরিশাল জেলা

নদী, নালা ও খালের শহর—অশ্বিনী কুমারের স্মৃতিধন্য জনপদ

মূল পরিচিতি

বরিশাল জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ শস্য ভাণ্ডার এলাকা। কীৰ্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত এই জেলাটি তার মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অসংখ্য খালের উপস্থিতির জন্য 'বাংলার ভেনিস' হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিকভাবে বরিশাল শিক্ষা, সাহিত্য ও রাজনৈতিক সচেতনতায় অগ্রগণ্য একটি জনপদ। এখানকার শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের স্মৃতি আজও অমর হয়ে আছে।

উপজেলাসমূহ (১০টি)

বরিশাল সদর
বাকেরগঞ্জ
বাবুগঞ্জ
বানারীপাড়া
গৌরনদী
হিজলা
মেহেন্দিগঞ্জ
মুলাদী
উজিরপুর
আগৈলঝাড়া

ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বরিশাল এক সময় 'চন্দ্রদ্বীপ' রাজ্যের অংশ ছিল। ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল বৃহত্তর বাখরগঞ্জ জেলার অংশ। লোকসংস্কৃতি, পালাগান এবং ব্রতচারী গানের জন্য বরিশাল বিখ্যাত। এখানকার মানুষের মুখের ভাষা এবং আতিথেয়তা এক অনন্য ঐতিহ্যের পরিচয় দেয়। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অশ্বিনী কুমার হল এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র।

অর্থনীতি ও শিল্প

কৃষি: বরিশাল মূলত একটি কৃষিপ্রধান জেলা। এখানকার আমড়া এবং সুপারি সারা দেশে জনপ্রিয়। নদ-নদী সমৃদ্ধ হওয়ায় ইলিশ মাছের বড় একটি অংশ এখান থেকে সরবারহ করা হয়।

নৌ-বাণিজ্য: বরিশাল নদী বন্দর বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ব্যস্ততম নদী বন্দর যা দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াত ও বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র।

ভৌগোলিক অবস্থান

অবস্থান: নিম্ন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত নদী বিধৌত ভূমি।

সীমানা:
  • উত্তর: মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা
  • দক্ষিণ: পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা
  • পূর্ব: ভোলা ও লক্ষ্মীপুর জেলা
  • পশ্চিম: ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা

যোগাযোগ ব্যবস্থা

নৌপথ: ঢাকার সাথে বরিশালের নৌ যোগাযোগ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ। আধুনিক বিলাসবহুল লঞ্চের মাধ্যমে যাতায়াত এ অঞ্চলের এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

সড়কপথ: লেবুখালি সেতু ও পদ্মা সেতু হওয়ার পর ঢাকার সাথে বরিশালের সড়ক যোগাযোগ অনেক সহজ ও দ্রুত হয়েছে।

দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান

স্থাপত্য ও ঐতিহ্য

গুটিয়া মসজিদ অপূর্ব কারুকাজ সংবলিত এশিয়ার অন্যতম সুন্দর আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর মসজিদ।
কলসকাঠি জমিদার বাড়ি বাকেরগঞ্জ উপজেলার এক প্রাচীন ও রাজকীয় ঐতিহাসিক ভগ্নাবশেষ।
দুর্গাসাগর দীঘি বৃহত্তম এই কৃত্রিম জলাশয়টি পরিযায়ী পাখির জন্য বিখ্যাত।

নিসর্গ ও বিনোদন

কীৰ্তনখোলা নদীর তীর শহরের প্রধান নদী তট যা বিকালে ভ্রমণের জন্য চমৎকার।
ভাসমান পেয়ারা বাজার বানারীপাড়ার খালের ওপর নৌকার হাটে পেয়ারা কেনাবেচার অপূর্ব দৃশ্য।
আলীপুর বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী এক পবিত্র স্থান।

বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ব্যক্তিত্ব

কালজয়ী কবিতাশৈলী

জীবনানন্দ দাশ 'রূপসী বাংলা'র কবি হিসেবে খ্যাত এই কিংবদন্তি বরিশালের সন্তান। তাঁর 'বনলতা সেন' ও 'আট বছর আগের একদিন' বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
সুকান্ত ভট্টাচার্য 'কিশোর কবি' হিসেবে পরিচিত। তাঁরুণ্যের দ্রোহ ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের চেতনা তাঁর লেখনীতে মূর্ত।

সাংস্কৃতিক ও রাজনীতি

শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক বাংলার অবিসংবাদিত নেতা ও অসামান্য বাগ্মী। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সমাজসেবা এ অঞ্চলের ইতিহাসের গৌরব ও অহংকার।
মুকুন্দ দাস বিখ্যাত চারণকবি ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তাঁর স্বদেশী গান সারা বাংলায় জাগরণ সৃষ্টি করেছিল।

বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ব্যক্তিত্ব

কালজয়ী কুশলী ও অমর কবি

জীবনানন্দ দাশ 'রূপসী বাংলার কবি' ও আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান পুরুষ। বরিশালের আলো-বাতাসেই তাঁর অনেক শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মূর্ত হয়ে উঠেছে।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বিশিষ্ট কবি ও প্রগতিশীল চিন্তাবিদ। তাঁর 'মাগো ওরা বলে' কবিতা ও অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য উচ্চতায় রয়েছে।

সাংস্কৃতিক ও চারণ ঐতিহ্য

মুকুন্দ দাস বিখ্যাত চারণকবি ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তাঁর চারণ গীতি এ অঞ্চলের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেছে।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ 'লালসালু' উপন্যাসের স্রষ্টা। এ অঞ্চলের সমাজবাস্তবতা ও মানুষের মনস্তাত্ত্বিক রূপরেখা তাঁর লেখনীতে ফুটে উঠেছে।

ভবিষ্যৎ প্যানেল ও কৌশল

কৌশলবিদ

বরিশালকে একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। আধুনিক কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করলে বাণিজ্যে গতি ফিরবে।

সমালোচক

নদী ভাঙ্গন ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চল সংরক্ষণে পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রয়োজন।

উদ্ভাবক

ভাসমান কৃষিপদ্ধতি (ধাপ) ও নদী-ট্যুরিজমকে আরও আধুনিকায়ন করে বরিশালকে একটি বিশ্বমানের গ্রিন সিটি বানানো সম্ভব।