Back

বাগেরহাট জেলা

ঐতিহ্য আর প্রকৃতির এক অপূর্ব মিলনস্থল

মূল পরিচিতি

প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৪ সালে বাগেরহাট মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয়।

প্রশাসনিক কাঠামো: ৯টি উপজেলা (বাগেরহাট সদর, মোল্লাহাট, চিতলমারী, কচুয়া, ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা) এবং ৭৫টি ইউনিয়ন নিয়ে এই জেলা গঠিত।

ভৌগোলিক বিশেষত্ব: এই জেলার দক্ষিণ সীমান্ত বঙ্গোপসাগরের সাথে যুক্ত। সুন্দরবনের প্রভাবে এখানকার জলবায়ু আর্দ্র ও নাতিশীতোষ্ণ।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বাগেরহাটের ইতিহাস হযরত উলুঘ খান জাহান আলী (রহ:)-এর সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

খলিফাবাদ: পঞ্চদশ শতাব্দীতে তিনি এই অঞ্চলকে একটি পরিকল্পিত নগরে রূপান্তর করেন।

স্থাপত্যশৈলী: ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ষাট গম্বুজ মসজিদ, নয় গম্বুজ মসজিদ ও সিঙ্গাইর মসজিদ এখানকার স্থাপত্য শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন।

অর্থনীতি ও শিল্পায়ন

বাগেরহাটের অর্থনীতি মূলত বন্দর ও সাদা সোনার ওপর নির্ভরশীল।

মোংলা বন্দর: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর যা আমদানি-রপ্তানির মূল কেন্দ্র।

সাদা সোনা: ফকিরহাট ও রামপাল এলাকায় বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎস।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র: এই অঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এক বিশাল পদক্ষেপ। এছাড়াও বনের মধু ও মাছ সংগ্রহ অনেকের জীবিকার উৎস।

দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন

সুন্দরবন: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রা হরিণের আবাসস্থল।

খান জাহান আলীর মাজার: ভক্ত ও পর্যটকদের জন্য প্রধান আকর্ষণ। সংলগ্ন দিঘির কুমির এক বিশেষ আকর্ষণ।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি

শিক্ষা: বাগেরহাট সরকারি পিসি (প্রফুল্ল চন্দ্র) কলেজ এ অঞ্চলের এক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ।

সংস্কৃতি: লোকজ সংস্কৃতির মধ্যে যাত্রাপালা, বাউল গান এবং নৌকাবাইচ অত্যন্ত জনপ্রিয়। এখানকার বিভিন্ন গ্রামীণ মেলা সামাজিক বন্ধন অটুট রাখে।

বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ব্যক্তিত্ব

বিজ্ঞান ও চিন্তা

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (পি.সি. রায়) আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের জনক। বাগেরহাটের সরকারি পিসি কলেজ তাঁর নামেই প্রতিষ্ঠিত। তিনি একাধারে বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও ভাবুক গবেষক।
হযরত উলুঘ খান জাহান আলী (রহ:) যদিও তিনি সুফী সাধক ও শাসক ছিলেন, কিন্তু তাঁর স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা এ অঞ্চলের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের কালজয়ী অংশ।

সাহিত্য ও সংস্কৃতি

কালীপদ রায়চৌধুরী প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও সাহিত্য অনুরাগী। বাগেরহাটের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
শহীদ এম মনসুর আলী (স্মৃতি) রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক অমর ব্যক্তিত্ব।

বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ব্যক্তিত্ব

কালজয়ী সাহিত্য ও সংস্কৃতি

খান জাহান আলী (রহ.) বাগেরহাটের ঐতিহাসিক শহর 'খলিফাতাবাদ'-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর স্থাপত্য ও জনকল্যাণমূলক কাজ এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে চিরঅম্লান।
মোহাম্মদ মোশারেফ হোসেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক। এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তাঁর গবেষণা অত্যন্ত মূল্যবান।

সাংস্কৃতিক ও ইতিহাসবিদ

আঞ্চলিক লোকশিল্পীগণ ভৈরব ও পশুর নদীর পাড়ে লোকসংগীতের যে সুর বহমান, তা এ অঞ্চলের মাটির মানুষের জীবনবোধ ফুটিয়ে তোলে।
সুন্দরবন গবেষকগণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও ইতিহাস নিয়ে কাজ করা অনেক প্রথিতযশা গবেষক বাগেরহাটের আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেছেন।

একনজরে জেলা

নদ-নদী পশুর, রূপসা, ভৈরব, বালেশ্বর ও মধুমতী।
প্রধান শস্য ধান, চিংড়ি, নারিকেল ও সুপারি।
প্রধান আকর্ষণ ষাট গম্বুজ মসজিদ, সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর।

ভবিষ্যৎ প্যানেল ও কৌশল

কৌশলবিদ

ব্লু-ইকোনমি এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি বাগেরহাটকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বাণিজিক প্রবেশপথ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

সমালোচক

ভুলবশত সুন্দরবনের বাফার জোনে শিল্পায়ন এবং লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঠেকানো না গেলে পরিবেশ বিপর্যয় অনিবার্য।

উদ্ভাবক

সুন্দরবন এবং ষাট গম্বুজ মসজিদকে কেন্দ্র করে 'থিম-ট্যুরিজম' এবং ডিজিটাল হেরিটেজ ট্যুর বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।